সার কারখানার জন্য বরাদ্দ গ্যাস ব্যবহার করা হতে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে
নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ
বিদ্যুৎ-পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় তিন মাসের জন্য সব শ্রেণীর গ্রাহককে নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখে ওই গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রে দেওয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভার একটি সূত্র জানায়, এর আগের একটি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগের বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনে তা বন্ধ রাখা হবে। এখন বিদ্যুৎ-পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় গতকাল থেকেই তিন মাসের জন্য নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। তবে বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোনো সংস্থা গতকাল মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কিছু জানতে পারেনি বলে কয়েকটি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
সভায় কর্ণফুলী সার কারখানা (কাফকো), পলাশ, ঘোড়াশাল ও চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি বন্ধ করে সেখানে সরবরাহ করা গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেওয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাফকো ও চিটাগাং ইউরিয়া কারখানা বন্ধ রাখা বিশেষ প্রয়োজন বলে সভা সূত্র জানায়। কারণ, তা হলে ওই গ্যাস চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে। দু-এক দিনের মধ্যে ওই সার কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে দেশে প্রচুর পরিমাণে ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে।
এদিকে আগের দিনের চেয়ে গতকাল দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন অনেক কমে যায়। গ্যাস সরবরাহ আরও হ্রাস পাওয়া ও কারিগরি ত্রুটিই এর কারণ বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের (আরইবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে মনে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা শুরু করেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন (রোববার) যেখানে প্রায় তিন হাজার ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল, সেখানে গতকাল সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয় তিন হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট। গতকাল বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহও আগের দিনের তুলনায় কম ছিল। গ্যাসস্বল্পতার কারণে গতকাল বিদ্যুৎ উৎপাদন আগের দিনের চেয়ে কম হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে কারিগরি কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় উৎপাদন কম হচ্ছে।
গতকাল দেশের নানা স্থানে কয়েকটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের ফোন করে বিদ্যুৎ-পরিস্থিতি, সেচ কার্যক্রম প্রভৃতি বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, এখন তাঁরা বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছেন। এ ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছেন না। তাঁরা বলেন, কয়েকটি এলাকায় রোববার দিবাগত রাতে কিছু বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন।
শুধু পল্লী বিদ্যুৎ নয়, ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোতেও একই অবস্থার কথা জানা গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় গতকাল বিতরণকারী সংস্থাগুলোতেই লোডশেডিং বেশি ছিল।







Sabuj
২০১০.০৩.৩০ ০৪:২৮mayen uddin
২০১০.০৩.৩০ ০৭:২০Shamsul Alam
২০১০.০৩.৩০ ০৭:২৫
২০১০.০৩.৩০ ০৭:৩৪Borhan
২০১০.০৩.৩০ ১৭:৩২