ঘড়ির কাঁটা পেছানোর ক্ষণ নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন, বিড়ম্বনার আশঙ্কা
অবশেষে সরকার ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু গ্রেগরিয়ান দিনপঞ্জির শেষ দিনের শেষ ক্ষণে অর্থাত্ ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা বাজলে ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে রাত ১১টা করার সিদ্ধান্তকে অবৈজ্ঞানিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘড়ির কাঁটা পেছানোর এই সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রীতিও মানা হয়নি।
দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার বা ডেলাইট সেভিং টাইম-ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক রীতি হচ্ছে, শীত মৌসুমের আগেই (সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে) ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দিতে হবে। সরকার ডেলাইট সেভিং টাইম-ব্যবস্থা চালু করার পরও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিটা অনুসরণ না করায় অনেক সমালোচনা হয়েছে। শেষমেশ ঘড়ির কাঁটা পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রীতি উপেক্ষিত হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মুহম্মদ জাফর ইকবাল মনে করেন, ডেলাইট সেভিং টাইমের মেয়াদ যেমন ইচ্ছেমতো ঠিক করা উচিত নয়, তেমনি ঘড়ির কাঁটা এগোনো বা পেছানোর ক্ষণটিও ইচ্ছেমতো নির্ধারণ করা যায় না।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘড়ির কাঁটা এগোনো-পেছানোর কাজটা করা হয় এমন সময়ে, যখন এ পরিবর্তনের ক্ষণটুকু মানুষের জীবনযাপনের ওপর সবচেয়ে কম প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত রাত দুইটার সময় ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে রাত একটা করা হয়। ইউরোপে ঘড়ির কাঁটা পেছানো হয় রাত একটায়। কিন্তু বাংলাদেশে শুধু তারিখ পরিবর্তনের ক্ষণে নয়, পুরো একটা সাল পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হবে।
উদাহরণ দিয়ে বলা যাক। ধরুন, সময়টা ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড। এক সেকেন্ড পর রাত ১২টা বাজলেই তারিখ পাল্টে যাচ্ছে। আর বছরের শেষ দিন বলে সালটাও পাল্টে যাচ্ছে। ঠিক ওই সময় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানো হলেও সময়-নির্দেশক কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে তারিখ ও সাল পাল্টাবে না। মোবাইল ফোনসেট, কম্পিউটারসহ ডিজিটাল সব মাধ্যমে তখন তারিখ ও সময় দেখাবে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি। বিড়ম্বনা আরও আছে—কম্পিউটার, ডিজিটাল ঘড়ি বা মোবাইল ফোনসেটে ২৪ ঘণ্টা টাইম ফরম্যাট অনুসরণ করা হলে, তখন সময় দেখাবে ১ জানুয়ারি রাত ১১টা। আর ১২ ঘণ্টার টাইম ফরম্যাট থাকলে দেখাবে ১ জানুয়ারি বেলা ১১টা। অথচ এটা হওয়ার কথা ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা। বর্তমান নির্ধারিত ক্ষণে এক ঘণ্টা সময় পেছালে সময় এগিয়ে যাবে ১২ ঘণ্টা বা ২৪ ঘণ্টা। কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনসেটের তারিখ ও সময় পরিবর্তনের মাধ্যমে যে কেউ বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন।
তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে বিমান চলাচল, ট্রেন যোগাযোগ বা জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ড পুরোপুরি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নয়। ফলে এই সময় পরিবর্তনের বিড়ম্বনার স্বরূপ পুরোপুরি বোঝা যাবে না।
বাংলাদেশে ঘটা করে গ্রেগরিয়ান নববর্ষ (যা ইংরেজি নববর্ষ হিসেবে পরিচিত) উদ্যাপনের তেমন রীতি নেই। এর পরও অনেকেই হয়তো রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ড থেকে ক্ষণ গণনা বা কাউন্টডাউন শুরু করবেন নতুন বছরের। কিন্তু রাত ১২টা বাজলেই আবার সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে রাত ১১টা করা হলে, এক ঘণ্টা পর কি আবারও ক্ষণ গণনা করতে হবে নববর্ষের। অনেকে তাই প্রশ্ন তুলেছেন, এবার কি দুবার নববর্ষের ক্ষণ গণনা করতে হবে?
অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, যুক্তি না মেনে সিদ্ধান্ত নিলে এ রকম জটিলতাই দেখা দেবে। ডেলাইট সেভিং টাইম প্রচলন ও প্রয়োগ করার আগে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভালো করে জানা উচিত ছিল। সময় নিয়ে এ ধরনের ছেলেখেলা করলে দেশে হয়তো কোনো ব্যবহারিক প্রভাব পড়বে না, কিন্তু আগামী প্রজন্মের কাছে এটা যুক্তিহীন সিদ্ধান্তের উদাহরণ হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনেই ঘড়ির কাঁটা পেছানোর ক্ষণটা পুনর্নির্ধারণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল মনে করেন, বাংলাদেশে ডেলাইট সেভিং টাইমের প্রচলন করাটাই ছিল ভুল। আর এর খুঁটিনাটি প্রয়োগ নিয়ে ভুল তো হবেই। তবে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এ ভুলটি বুঝতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।







Nazrul Islam
২০০৯.১২.২৭ ০৩:৩৭ল্যাঠা চুকে যায় । বলে দিন কাল থেকে কোন ঘডিতে কাঁটা থাকবেনা - সমস্যা শেষ।
Shyam
২০০৯.১২.২৭ ০৫:০৫saifu
২০০৯.১২.২৭ ০৯:০৯Prothoma
২০০৯.১২.২৭ ১০:১৫MAS Molla
২০০৯.১২.২৭ ১০:১৯MD. NASIR UDDIN
২০০৯.১২.২৭ ১০:২৮Nirupam Hira
২০০৯.১২.২৭ ১০:৩২MRJ Mehedi
২০০৯.১২.২৭ ১০:৫৪Ivan Hussain
২০০৯.১২.২৭ ১১:১০Rana
২০০৯.১২.২৭ ১১:২৮nasir ahmed
২০০৯.১২.২৭ ১১:৩১A M Nazmul Huda
২০০৯.১২.২৭ ১১:৫৭Alim Al Razi
২০০৯.১২.২৭ ১২:৫২Rajib Ahmed
২০০৯.১২.২৭ ১৩:৩২Md. Mamunur Rashid
২০০৯.১২.২৭ ১৩:৪০মূলতঃ সেই তো মা নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি, সরকার শেষ পর্যন্ত জ্বালানী উপদেষ্টার উপদেশে জ্বলেনি। তবে জ্বালানী উপদেষ্টা মানুষের মনে যে আগুন জ্বালিয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের ২-৫% কেউ কেউ বলে আরও বেশি ভোট হাওয়া হয়ে হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। সরকারকে এইসমস্ত কর্মকাণ্ডের দিকে আরও বেশি নজর ভোট কমানোর জন্য এবং ওই সমস্ত উপদেষ্টাদের উপদেষ বেশি করে আমলে নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি...
The sooner they realise it,the better for them and for us.Govt.'s job is to smoothen citizens life,not to complicate it further.
.
Goonjohn Chowdhury
২০০৯.১২.২৭ ১৪:০৫"যা শুনাইলেন স্যার, সত্যিই ফাইন!!!"
Jisan M Yasin
২০০৯.১২.২৭ ১৫:১২Md. Mohsin Hussain
২০০৯.১২.২৭ ১৫:১৫Md. Mohsin Hussain
২০০৯.১২.২৭ ১৫:১৬Mahbubur Rahman
২০০৯.১২.২৭ ১৫:১৭Nipun
২০০৯.১২.২৭ ১৬:১১@Prothomjanala :- Couldn't get whether u are being sarcastic & trying to present an irony or not !!!
Daylight time saving is not applicable in a country like Bangladesh because of the climate & stuff.Jafar Iqbal sir had written a wonderful article about this in Prothom Aloo some days ago.I suggest everybody read that article & try to understand.Unfortunately,the person who needs to understand this the most(Sheikh Hasina)won't understand,because she is a play-group fail !!!
Shantonu Rahman
২০০৯.১২.২৭ ১৭:০০Imtiaz Uddin
২০০৯.১২.২৭ ১৭:২২HMR
২০০৯.১২.২৭ ১৮:৩০Govt. should remember that they cannot make any decision whenever they want.
Maximum ministers of them r new and `yes mam' ..sorry..`yes sir' `yes sir' typed.
So we cannot expect from them anything without too much talk ends in nothing.
Zulfikar
২০০৯.১২.২৭ ২০:৪৩Aranya
২০০৯.১২.২৭ ২১:৫৪
২০০৯.১২.২৭ ২২:৫৭James L Roy
২০০৯.১২.২৮ ১০:১৪maisun
২০০৯.১২.২৮ ২১:৩৪maisun
২০০৯.১২.২৮ ২১:৩৬