সব

‘আলোর মানুষ’ হ্যারল্ড ভারমাস

হুমায়ূন রেজা
প্রিন্ট সংস্করণ

হ্যারল্ড ভারমাসদিনের আলো এমন উজ্জ্বল যে আকাশে চোখ মেললে তা জলে ভরে আসে। হেমন্তের এমন উজ্জ্বল আলোর মধ্যেই বাংলা একাডেমিতে চলছে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৫’। সেখানে বর্ধমান হাউসের পাশে বহেড়াতলায় দুপুরের কবোষ্ণ রোদ পাতার ফাঁক গলে যেন ঝরে ঝরে পড়ছিল। আর এই আলো গায়ে মেখে ‘আলোর মানুষ’ নোবেল বিজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী হ্যারল্ড ভারমাস ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ক্যানসারের জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৮৯ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন তিনি। হ্যারল্ড ভারমাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক কাউন্সিলেরও একজন উপদেষ্টা।
হ্যারল্ড ইলিয়ট ভারমাস জন্মেছিলেন ১৯৩৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে। তাঁর ভাষায় তিনি জন্মেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রচ্ছায়ায়। ভারমাসের পিতামহ জ্যাকব ভারমাস ইউরোপের পোল্যান্ডের ওয়ারশর কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। হ্যারল্ড ভারমাসের বাবা ফ্র্যাঙ্ক ভারমাস পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। আর মা বিয়াত্রিচ কাজ করতেন নিউইয়র্কে, একজন সমাজকর্মী হিসেবে।
বাংলা একাডেিমর বহেড়াতলায় দাঁড়ানো হ্যারল্ড ভারমাসের হাতে খাবারের পাত্র। সেখান থেকে পিৎজার একটা টুকরোয় কামড় বসিয়ে দেখছিলেন চারপাশ, উৎসবে আসা মানুষজন আর সম্ভবত হেমন্তের আকাশ। কাছে গিয়ে তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা জানালে সম্মতি জানিয়ে বললেন কোথায়? টিভি ক্যামেরা পছন্দ করেন না। টিভি ক্যামেরায় সাক্ষাৎকার দেন না। তার চেয়ে কথা বলতে চান। কিন্তু কথা বলার ক্ষেত্রেও অসম্ভব সংযমী ও স্বল্পবাক হ্যারল্ড ভারমাস। তাঁর নিজস্ব ভাবনা, শৈশব, শখ, পছন্দ-অপছন্দ—সব বিষয়ে খুব সুনির্দিষ্টভাবেই বলেন। একাডেমি প্রাঙ্গণে হাঁটতে হাঁটতেই কথা বলার শুরু। জড়তা ভাঙার জন্য ‘কেমন লাগছে বাংলাদেশে এসে?’—এমন প্রশ্নে হাসলেন। বললেন, ‘চমৎকার লাগছে।’
বাংলাদেশে এসে তাঁর দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। বিখ্যাত স্থপতি লুই কানের অসাধারণ এক স্থাপত্যকর্ম আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন। সেটি দেখার খুব আগ্রহ ছিল তাঁর। সেটি দেখা সম্ভব হয়েছে। হেসে জানালেন, এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরও ঘুরে এসেছেন। দেখেছেন ঢাকার কেনেডি সেন্টারটিও। আর এখন এই উৎসবে। খুব বেশি ঘোরা হয়নি তবু বাংলাদেশের মানুষ সম্পর্কে একটা ভাবনা কাজ করেছে তাঁর মনে। সেটি হচ্ছে এ দেশের মানুষেরা দেশের সম্পদ হিসেবে, শক্তি হিসেবে কাজ করছে। আর এর কারণেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানকে তাঁর শিক্ষা আর গবেষণার বিষয়বস্তু করলেও এই নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী কিন্তু তাঁর পড়াশোনার শুরুতে (গ্র্যাজুয়েট স্কুলে) সাহিত্যের প্রতিই ঝুঁকে পড়েছিলেন। প্রথমে তো সাহিত্য নিয়েই পড়াশোনা শুরু করেছিলেন? এ ক্ষেত্রে সাহিত্য কী ‘প্রথম প্রেম’? এমন প্রশ্নে হেসে বললেন, ‘বিষয়টা এমন নয়। সাহিত্য নিয়ে এক বছর পড়েছি। মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সে কী হতে চায়। বেছে নেওয়ার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। আমি শেষতক বেছে নিয়েছি মেডিকেল স্কুল। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে সাহিত্য আমার পছন্দ নয়। আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, আসলে আমি কী হতে চাই। ভেবে দেখেছি, এ ক্ষেত্রে মেডিকেল ডিগ্রি আমার জন্য অনেক দরজা খুলে দেবে। চাইলে আমি শিক্ষক হতে পারব, চিকিৎসক, গবেষক আরও অনেক কিছু।’
সাহিত্যের কোন অংশটি পছন্দ? কবিতা? গদ্য? এমন প্রশ্নে ভারমাস বলেন, একটা সময় পড়েছেন; যেমন চসার, এখনো শেক্সপিয়ারের নাটক মঞ্চস্থ হলে দেখতে যান। প্রিয় মার্কিন লেখক কে? কঠিন প্রশ্ন। কিছুক্ষণ থেমে বললেন, ‘সম্ভবত ফিলিপ রথ। যদিও তিনি এখন আর তেমন লেখেন না। মার্কিন লেখক ফিলিপ রথের নভেলা, গুডবাই, কলম্বাস নিয়ে কথা এগোনোর আগেই ভারমাস বললেন, ‘আমি ফিকশন আর ইতিহাসই পড়তে ভালোবাসি। কবিতাও পড়েছি; তবে খুব বেশি নয়।’ প্রিয় কবি? কবিতা লেখেন? বললেন, ‘যখন আমি তরুণ ছিলাম সে সময় কিছু কবিতা লিখেছি। কিন্তু তাও খুব বেশি নয়। পরে আর লেখা হয়নি।’ নাম নিলেন কবি জন ডান-এর, অ্যান্ড্রু মার্ভেল-এর।
উপদেশ দিতে পছন্দ করেন না হ্যারল্ড ভারমাস। তবু বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা আর বাইরে পড়াশোনা করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বললেন, ‘বাইরে পড়তে যাওয়া ভালো। কিন্তু দেশে ফিরে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’
পৃথিবী বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিতে যত এগিয়েছে আমরা নিজেদের ততটাই ঠেলে দিয়েছি ঝুঁকির মধ্যে। ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ বা জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে ভারমাস বললেন, ‘এ বিষয়টি অবশ্যই চিন্তার। কিন্তু এর সমাধান বিশেষ করে রাজনৈতিক কারণে অনেক দুরূহ একটি বিষয়। স্বচ্ছন্দ জীবনের জন্য মানুষ বিজ্ঞানের সহায়তা নিতে চায়, জ্বালানি-শক্তি (এনার্জি) ব্যবহার করে স্বচ্ছন্দ হতে চায়, আর এর কারণেই যত সংকট। আর এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্বও তেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে না। বিশেষ করে গবেষণায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনেই বললেন, ‘এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এ-সংক্রান্ত গবেষণার পেছনে তেমন খরচ করছে না।’

default image

আইনি সহায়তার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির তাগিদ

মুক্ত ফুটপাত, নির্বিঘ্ন চলাচল, সহনীয় যানজট

মুক্ত ফুটপাত, নির্বিঘ্ন চলাচল, সহনীয় যানজট

default image

সময় কমেছে, চাঁদার পরিমাণ কমেনি

তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড সড়কে আবার ট্রাক কাভার্ড ভ্যান!

তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড সড়কে আবার ট্রাক কাভার্ড ভ্যান!

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

default image

ঢাকায় সরকারি গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব

ঢাকার গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তিমালিকানার পরিবর্তে...
default image

ট্যানারি শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান সিপিবির

চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষা ও নিয়মিত মজুরি দেওয়াসহ হাজারীবাগের বন্ধ হয়ে যাওয়া...
জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ ঢাকা ওয়াসা

বললেন মেয়র সাঈদ খোকন জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ ঢাকা ওয়াসা

জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসা একটি ব্যর্থ সংস্থা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ...
default image

গল্প–কাব্যের বৃষ্টি এই শহরে বড় বিস্বাদ

বৃষ্টি এখন আর উপভোগ করতে পারে না এই শহরের বাসিন্দারা। গল্প-কাব্যের বৃষ্টির...
মৃধাসহ তিনজনের ৪ বছর জেল

রেলে নিয়োগে দুর্নীতি মৃধাসহ তিনজনের ৪ বছর জেল

রেলে নিয়োগে দুর্নীতির দুই মামলায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক...
অভিযানের মধ্যে থেমে থেমে গুলি

অভিযানের মধ্যে থেমে থেমে গুলি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়িতে আজ...
কেন আসছে না পাকিস্তান?

কেন আসছে না পাকিস্তান?

পাকিস্তানের মাটিতে একটি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় খেলার আমন্ত্রণ ছিল...
উত্তর কোরিয়াকে বশে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নয়া চাল

উত্তর কোরিয়াকে বশে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নয়া চাল

উত্তর কোরিয়ায় আরও কঠিন অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্য পরমাণু...
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info