মিরপুর ১ নম্বরের হজরত শাহ আলী (রহ.) মার্কেট

উদ্বোধনের এক মাসেও চালু হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

মিরপুর ১ নম্বরের হজরত শাহ আলী (রহ.) মার্কেটের এক-দশমাংশ নির্মাণ করতেই ১২ বছর লেগেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)। গত ২৯ অক্টোবর সেই আংশিক নির্মিত মার্কেটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের এক মাস পরেও মার্কেটটি চালু করতে পারেনি ডিএনসিসি।
ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মার্কেটের দোকান বরাদ্দের তালিকা ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে মার্কেটটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করার পর ডিএনসিসি কোন দোকানে কাকে বরাদ্দ দেওয়া হবে, সেই তালিকা বানাচ্ছে। এ ছাড়া মার্কেটের বেশ কিছু আনুষঙ্গিক কাজও বাকি ছিল।
ডিএনসিসির সূত্রে জানা যায়, আশির দশকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাউজিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রক্রিয়ায় মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় ২৪৬টি দোকানসহ শাহ আলী (রহ.) মার্কেটটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০০৪ সালে মার্কেটের পুরোনো ভবনের সামনের অংশ ভেঙে নতুন নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তখন নতুন ভবনটির ছয়তলার নকশা করা হয়। ২০১২ সালে নকশায় পরিবর্তন এনে ১০ তলা মার্কেট ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এতে মোট দোকান হবে ৩ হাজার ৪৩৫টি।
গত ১২ বছরে মার্কেটের সাড়ে ৩ হাজার দোকানের মধ্যে ২৯৬টি দোকানের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, যা মোট দোকানসংখ্যার এক-দশমাংশের কম। ১৩৮ দশমিক ৬৩ কাঠা জায়গার ওপর ১০ তলা মার্কেট ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও ভবনের এক পাশের চারতলা পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর এই আংশিক নির্মিত চারতলা মার্কেটটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও মার্কেটটি চালু হয়নি। দীর্ঘ ১২ বছর পরে মার্কেটের অংশবিশেষ উদ্বোধন হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আশান্বিত হয়েছিলেন। কিন্তু মার্কেট চালু না হওয়ায় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের চাওয়া, দ্রুত মার্কেটটি চালু করা হোক।
মিরপুর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক যুগ এভাবে ভুগেছি। আর ভুগতে চাই না। উদ্বোধনের পরে মার্কেটের লে-আউট পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তালিকা করা, দোকান নম্বর দেওয়া নিয়ে সিটি করপোরেশনের এক শাখা আরেক শাখাকে ঠ্যালাঠেলি করে।’
ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ভবনটির চারতলায় মোট দোকান নির্মিত হয়েছে ২৯৬টি। নিচতলায় ৬৭টি, দ্বিতীয় তলায় ৭২টি, তৃতীয় তলায় ৭৭টি এবং চতুর্থ তলায় ৮০টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দেখা যায়, মার্কেট ভবনের ফটকের সামনে ও ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট ও কাঁচাবাজার। এসব অস্থায়ী দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অক্টোবরের ২৯ তারিখ মার্কেটটি উদ্বোধনের আগে তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু মার্কেট চালু না হওয়ায় তাঁরা আবার দোকান বসিয়েছেন।
মার্কেট চালুর বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দোকানগুলোর কিছু কাজ বাকি ছিল। দোকানে কারা উঠবে, সেটা ঠিক করা হচ্ছে। প্রকৌশল বিভাগ সব কাজ শেষ করে এনেছে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই মার্কেটটি চালু করা হবে।

আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আরও সংবাদ

View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে