গোদাগাড়ী–আমনুরা সড়ক

বড় বড় গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
গোদাগাড়ী-আমনুরা সড়কের গর্তে চাকা আটকে যাওয়া পাথরবোঝাই ট্রাক। ছবিটি সম্প্রতি গোদাগাড়ীর কাশিমমালা এলাকা থেকে তোলা l প্রথম আলোদেশের বিভিন্ন জেলায় সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও নির্মাণের অল্প দিনের মধ্যেই পিচ–খোয়া উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। কোথাও সড়ক ধসে পড়েছে। এসব সড়ক নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ে কুষ্টিয়া যাচ্ছিলেন চালক হাসান আলী। ভুল করে তিনি ট্রাক নিয়ে গোদাগাড়ী-আমনুরা সড়কে ঢুকে পড়েন। গোদাগাড়ী উপজেলার কাশিমমালা এলাকায় সড়কের গর্তে তাঁর ট্রাকটি আটকে যায়। ৩৮ ঘণ্টা পরে আরেকটি গাড়ি এনে মালামাল নামিয়ে তাঁর গাড়িটি তোলা হয়।

হাসান আলীর মতো অনেক চালকই গোদাগাড়ী-আমনুরা সড়কে ভোগান্তিতে পড়ছেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের আমনুরা পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব সাড়ে ১৭ কিলোমিটার। চার বছর সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় বহু গর্তের। এখানে গর্তে গাড়ি আটকে চলাচল বন্ধ ও দুর্ঘটনা যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে সড়কটির আংশিক সংস্কারকাজ হয়। তবে বড় কোনো গর্ত বা অন্য কোনো সমস্যা হলে জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অর্থ ছাড় হলে চলতি অর্থবছরেই কাজ হবে।
১২ অক্টোবর গোদাগাড়ীর কাশিমমালা এলাকায় পাথরবোঝাই ট্রাকটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। গর্তের ভেতরে একটি চাকা এমনভাবে ঢুকে গেছে যে চালক নানাভাবে চেষ্টা করেও গাড়িটি তুলতে পারেননি। চালক হাসান আলী বলেন, ‘সোনামসজিদ বন্দর থেকে পাথর নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হই। কিন্তু ভুল করে নিয়ামতপুরের দিকে যাচ্ছিলাম। পরে ফোন করে আমাকে ফিরে আসতে বলা হয়। আসার সময় এখানে গর্তে পড়েছি। সড়কে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের খবর দিয়েছিলাম। কয়েকজন এসে দেখে গেছেন। কিন্তু তাঁরা পরে আর গাড়িটি তুলে দিতে আসেননি।’ পরদিন মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে চালক হাসান আলী বলেন, আরেকটি গাড়ি এনে পাথরগুলো তাতে তোলা হয়। তারপর ট্রাকটি গর্ত থেকে তোলা হয়।
সড়কের পাশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের কেন্দুল গ্রামের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে রাস্তার এ রকম হাল দেখছি। দুই মাস আগে রাস্তার ওপরের অংশের ভাঙাচোরা কার্পেটিং তুলে ফেলা হয়েছে। এর আগে মোটরসাইকেলে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছিল।’
একইভাবে গর্ত হয়ে পানি জমে রয়েছে সড়কের বিশ্বনাথপুর ও ভুতপুকুর এলাকায়। ভুতপুকুর এলাকার কৃষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, এই এলাকার রাস্তায় গর্ত হওয়ার পর চার-পাঁচবার ইট দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এখানে দুর্ঘটনা লেগেই থাকে।
কাজীপাড়া এলাকার একটি দোকানের শ্রমিক মতিউর রহমান বলেন, এক বছর হয়ে গেল সড়কের এই খানাখন্দ বড় হতে হতে হাঁটু পর্যন্ত গর্ত হয়েছে। তাতে পানি জমে থাকছে। গাড়ি পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এরই ভেতর দিয়ে মানুষ চলাফেরা করছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
রাজশাহী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সড়ক। দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সবকিছু প্রস্তুত আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে কাজ শুরু হয়েছে। রাজশাহীর অংশের জন্য ২৭-২৮ কোটি টাকার প্রয়োজন। অর্থ পেলে চলতি অর্থবছরে এই রাস্তার কাজ শেষ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, আগে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি করেছিল। এর অনেক জায়গায় পাশের জমির চেয়ে রাস্তা নিচু। এ কারণে পানি জমে রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। এবার সেটা কাভার করার (সমাধান) চেষ্টা করা হবে।

আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আরও সংবাদ

View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে