আসলামের জার্সি

চন্দন চৌধুরী | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

2পাড়াগাঁয়ের এক ঘরে খিল লাগিয়ে নিজেকে বন্দী করেছে ইব্রাহিম। ইচ্ছে থাকলেও শব্দ করে কাঁদতে পারছে না। এর মধ্যে পালানোর চেষ্টাও করেছিল। লাভ হয়নি। তবে ঘরে বসে কাঁদলে কী হবে, বাইরে উৎসব চলছে। অসংখ্য মানুষ আনন্দে লাফালাফি করছে। এসব দেখে ইব্রাহিমের অশ্রুধারা আরও বেড়ে যায়। নিজেকে রক্ষার উপায় আর খুঁজে পায় না। এর মধ্যে জয়নালকে বার কয়েক কুত্তার বাচ্চা শুয়োরের বাচ্চা বলে খিস্তি করতেও ছাড়েনি। অবশ্য মনে মনে। ইব্রাহিম চোখের জল ফেলতে ফেলতে দেখতে পায়, জলবিন্দুর ভেতরে ভেসে উঠছে তারই অতীতের ছবি।আসলামের জার্সি গায়ে দিয়েই মহল্লায় বের হয়েছিল ইব্রাহিম। দেখে তো সবাই অবাক। মহল্লায় তার কদর বেড়ে যায়। যারা আগে তাচ্ছিল্যের সুরে তুই-তোকারি করত, তুমি করে বলে। ছোটরা তো ইব্রাহিম ভাই বলতে অজ্ঞান। যার সাথে খেলোয়াড় আসলামের সখ্য, সে আর ফেলনা কেউ নয়! সুযোগে ইব্রাহিমও নিজেকে জাহির করতে ছাড়ে না, ‘আসলাম ভাই নিজে আমারে জার্সিডা দিছে। দিয়া কইছে, নেও ইব্রাহিম, আজ থাইক্যা এই জার্সিডা তোমার। ইডা গাও দিয়া তুমি খেলবা। আর দিবই না কেরে কন? তাগো প্যাকটিস ম্যাছে এমুন খেইল দেখাইলাম, আসলাম ভাইরে কাটাইয়া গোল দিয়া দিলাম! দুই খান! আসলাম ভাই খেলার শেষে আমার কান্দে হাত রাইখা কয়, তুমি কোন ক্লাবে খেল? কইলাম, এখনো নাম লেখাই নাই। এরপর থাইক্যা আসলাম ভাইয়ের লগে খাতির।’মহল্লার বুড়োরাও ইব্রাহিমকে ভালো চোখে দেখে। এটা-সেটা খাইয়ে তাকে হাত করতে চায়। আসলামের জার্সিটা ছুতো করে ছুঁয়ে দেখতেও অনেকের লোভ। চা-দোকানি চায়ের দাম পর্যন্ত রাখে না। শত হলেও খেলোয়াড় আসলামের সাথে তার সখ্য বলে কথা! মহল্লায় একটা ক্লাব আছে। ক্লাবে যায় ইব্রাহিম। তবে খেলে না। অন্য খেলোয়াড়েরা তাকে খেলার জন্য জোরাজুরি করে, তবে সে মাঠে নামতে নারাজ। তরুণ খেলোয়াড়েরা ডেকে বলে, কিছু শিখাও না ইব্রাহিম ভাই। তবে ইব্রাহিমের সাফ কথা, ছোটখাটো মাঠে খেলে নিজের সম্মান খোয়াতে পারবে না। জয়নালই গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাবার প্রস্তাবটা দিয়েছিল। এক কথায় সে রাজি হয়ে গিয়েছিল। তবে গ্রামে জয়নালদের বাড়ি এসেই থমকে যায় ইব্রাহিম। এলাহি কাণ্ড। প্রথমে বিষয়টা ঠাওর করতে পারেনি। যখন বুঝল করার কিছুই থাকল না। এখন সে একলা ঘরে বসে কাঁদছে। বাইরে ব্যান্ড পার্টির বাজনার সঙ্গে নাচছে গ্রামের পোলাপানেরা।
একলা ঘরে কতক্ষণ থাকা যায়! তবে বাইরে বেরোনোরও তো কোনো উপায় নেই। এই গ্রামে পা রাখার পর কম করে হলেও হাজার চোখ তাকে উৎসুক হয়ে দেখেছে। নিজেকে চিড়িয়াখানার প্রাণীর মতো লাগছে। পালানোর পথে একবার নৌকায়ও চড়েছিল। লাভ হয়নি। নৌকার মাঝি পর্যন্ত তাকে চেনে, ‘পিলার ভাই, চলেন আফনেরে মইধ গাঙ থাইক্যা ঘুরাইয়া লইয়াই।’ ফলে নিজেই মাঝিকে গাঁয়ের দিকে ফিরতে বলে ইব্রাহিম। আর হাড়-জিরজিরে পোলাপান তো নেড়ি কুত্তার মতো তার পিছু লেগেছে। তবু দরজা খুলে বের হয়। সেই আগের দৃশ্য, অসংখ্য চোখ তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। একে অন্যকে কানাকানি করে বলে, ‘দেখ, ঢাকাইয়া পিলার। আসলামের জার্সি পইরা নাকি খেলে। জয়নাল ভাই হেরে হায়ার কইরা আনছে। এইবার আমরা জিতমুই।’

জয়নালকে ডেকে ঘরে নিয়ে আসে ইব্রাহিম। তবে নিজের ভেতরের দবদবানি বুঝতে দেয় না। দরজায় খিল টেনে বলে, ‘তুই তো আমার লগে একটা ফাইজলামি করলি।’ জয়নাল হাসতে হাসতে বলে, ‘দোস্ত, তোর জইন্য তো ইডা কুনু ব্যাপার না। বুঝলি, আমরা গাঁওয়ের মানু, আমগোর পোলাপাইন তেমুন ভালা খেলে না। এই বছর কেমনে কেমনে জানি লীগের ফাইনালে উইঠা গেল। আমারে কইল ঢাকা থাইক্যা খেলোয়াড় নিয়া আইতে। তখনই চিন্তা করলাম তরে নিয়া আসার কতা।’

‘তুই আমারে জানাইতে পারতি! আমার তো কুনু রহম প্র্যাকটিস নাই। তাছাড়া বুটও আনি নাই। নিজের বুট ছাড়া খেলতেই পারি না।’

‘কুনু চিন্তা করিস না। তোর পায়ের মাপে নতুন বুট কিন্যা আনছি।’

তার পরও ইব্রাহিম এটা-সেটা বলে না খেলার অজুহাত দেখায়। কিন্তু জয়নালের এক কথা—তাকে খেলতেই হবে। যখন দেখল আর কোনো উপায় নেই, সত্য কথাটা বলে ইব্রাহিম, ‘আমারে মাপ কইরা দে দোস্ত। আমি মিছা কথা কইছি, আমি আসুলে খেলতে পারি না। আসলামে আমারে জার্সিও দেয় নাই। আমি বানাইয়া বানাইয়া এইগুলা কইতাম।’

এই কথা শুনে জয়নাল আরও জোরে হাসে। ভাবে ইব্রাহিম নিশ্চয়ই দাম বাড়াইতে চায়, ‘দেখ ইব্রাহিম, এত ভং করবি না। তুই কি ভাবতাছস তোরে পয়সা দিমু না, মাগনা খেলামু! অইন্যখানে খেইল্যা যত ট্যায়া পাছ, হের থাইক্যা বেশি দিমু।’

ইব্রাহিম বুঝতে পারে, তালিবালিতে কোনো কাজ হবে না। তাই সত্যি সত্যি জয়নালের পায়ে জড়িয়ে ধরে, ‘দোস্ত, আমি কুনু খেলা পারি না।’ শুনে জয়নাল হাসে। বলে, ‘ফাঁকি দিতি চাস? কাম হইবে না, তোরে খেলতেই হইবো। ফাইজলামি রাইখা খেলার জইন্য তৈরি হ।’ ইব্রাহিম আবার বোঝানোর চেষ্টা করে, ‘বিশ্বাস কর, সইত্য কইতাছি, আমি কুনু খেলা পারি না। জীবনে একটাও শট দিই নাই বলে! আর তুই কিনা আমারে লীগের খেলায় খেলতে কছ?’

জয়নাল এবার বিগড়ে যায়, ‘এইসব বাজে কতা কইছ না তো। তুই এই একটা ম্যাচ খেইল্যা দে, আর কুনুদিন তোর কাছে কিচ্ছু চামু না।’ বলেই ঘর থেকে বের হয়ে যায়। ইব্রাহিমের সারা শরীর দিয়ে ঘাম বের হতে থাকে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, ‘মাফ কইরা দেও, আর জীবনেও মিছা কতা কইতাম না।’

সব চেষ্টা ব্যর্থ। ইব্রাহিমকে খেলতে যেতে হচ্ছে। মাঠের যত কাছাকাছি যাচ্ছে ততই বেড়ে যাচ্ছে হার্টবিট। বুকের দবদবানি শুধু নিজেই শুনতে পাচ্ছে। আশপাশে আনন্দ মিছিল। হইহুল্লোড়ের ভেতর নিজেকে ক্রমশ শক্তিহীন লাগছে। মনে পড়ছে আসলামের জার্সি চুরির কথা। ইব্রাহিম বসে ছিল গ্যালারিতে, মাঠের কাছাকাছি। একসময় গ্যালারিতে মারামারি লেগে যায়। সুযোগে সে মাঠে ঢুকে পড়ে। খেলাও একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। খেলোয়াড়েরা গা থেকে জার্সি খুলে রোদে শুকাতে দিয়েছিল। সেদিন কোত্থেকে যেন ইব্রাহিমের শরীরে দুরন্ত বাজের শক্তি ধরা দেয়। মাঠসুদ্ধ মানুষের মধ্য থেকে ছোঁ মেরে সে জার্সিটিকে বগলদাবা করে ফেলে। তারপর তাকে আর কে পায়! জার্সিটি দ্রুত লুকিয়ে ফেলে শার্টের নিচে।

মাঠ থেকে সোজা বাড়ি। জার্সি পরে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। নিজেকে বিভিন্নভাবে পোজ দিয়ে দেখে কেমন লাগে। সেই জার্সিই তার কাল হলো। তবে ফুটবল খেলতে নামেনি এমন নয়, জীবনে একবারই ফুটবল খেলতে নেমেছিল ইব্রাহিম। সেদিন একটা জোরালো শট এসে লেগেছিল তার চাপায়। তাতেই কাত হয়ে পড়েছিল মাঠে। এরপর কোনো দিন খেলতে নামেনি। আজ তাকে খেলতে হবে। আজ তার অনেক দায়িত্ব। এসব ভাবে আর নিজের ভেতরের কলিজা শুকানোর দৃশ্য আঁকে। অন্য খেলোয়াড়ের মতো সেও মাঠে নামার প্রস্তুতি নেয়। বুদ্ধি করে, একেবারে শেষের দিকে মাঠে নামবে। গ্রামের মানুষ তাতেও খুশি। কারণ তারা জানে, ভালো খেলোয়াড় শেষ দিকে নেমেই বাজিমাত করে। জয়নালও তাকে কিছু বলে না, মোট কথা খেললেই হলো। নিজের এবং প্রতিপক্ষ দলের অনেক লোক তাকে দেখতে আসে। লোকসংখ্যা যত বাড়ে ভয়ে ততই কেঁপে ওঠে বুকটা। মাঠে ভরপুর মানুষ। দুই দলের মধ্যেই কথা হচ্ছে তাকে নিয়ে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলেও ইব্রাহিম জানে, সে একটা মাকাল ফল। এরই মধ্যে খেলা শুরু হয়ে যায়। ইব্রাহিম চোখের সামনে শুধু অন্ধকার দেখে। নিজের মুখে জল ছিটিয়ে দেয় বার কয়েক। হাঁপাতে থাকে। নিজেকে প্রবোধ দেয়, ‘তুই জ্ঞান হারাইস না ইব্রাহিম।’ মনে মনে বলে, তার দল যেন তার মাঠে নামার আগেই গোলে এগিয়ে যায়। তাহলে তাকে মাঠে নামতে হবে না। তবে এই আশা পূরণ হয় না। গোলশূন্যভাবেই কেটে যায় খেলার অর্ধভাগ। জয়নাল এসে বলে, ‘তরে নামতে ইইব।’

এই কথা শোনার পর ইব্রাহিমের মাথা দিয়ে যেন বাষ্প বেরোতে থাকে। কথা বলার সামান্য শক্তি জুগিয়ে বলে, ‘এরা ভালাই খেলতাছে। আমি নামমু না, এমুন তো কই নাই। শেষের দিকে নামমু।’

চারপাশের লোকজন তখন তার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথা বলতে থাকে, ‘বুঝলি ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে। এমুন সময় নাইম্যা গইল দিব আর শোধ করনের সময় থাকতো না!’

এদিকে ইব্রাহিম আবার আল্লারে ডাকে, ‘পাপ করছি, পাপ করছি আল্লাহ, মাফ কইরা দ্যাও, মাফ কইরা দ্যাও...।’ সময় গড়াতে থাকে আর বাড়তে থাকে খেলার উত্তেজনা। অন্যদিকে ঢকঢক করে পানি গিলে ইব্রাহিম। কোনো দল গোল করতে পারে না। এমন উত্তেজনার ভেতরই ইব্রাহিম স্বপ্ন দেখতে থাকে। সে যেন অনেক লোক দ্বারা বেষ্টিত হয়ে আছে। সেখানে একদিক থেকে মানুষ সরিয়ে তার সামনে এসে দাঁড়ান আসলাম। কী বলবে ভাষা খুঁজে পায় না ইব্রাহিম, ‘আসলাম ভাই, আমারে...।’ আসলাম তার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসেন, ‘আমার কিচ্ছু করনের নাই ইব্রাহিম। এই অবস্থা তুমি তৈরি করেছ, ফয়সালাও তোমারেই করতে হইব। বুঝতেই পারতাছ, ব্যাপারটা সোজা না। এই মাঠের হাজার হাজার দর্শক তোমার খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করতাছে। তোমারে মাঠে নামতেই হইব।’ তারপর হঠাৎই মেঘের মতো বাতাসে মিলিয়ে যান আসলাম। ইব্রাহিম দেখতে থাকে মানুষ নয়, তাকে ঘিরে আছে ডানাওয়ালা অসংখ্য মেঘ। এই মেঘগুলো একসময় ঝড় তুলবে। তারপর কঠিন ঝড়ে তাকে শুধু মাটিতে নয়, বাতাসে মিলিয়ে দেবে। এসব যখন ভাবছিল, জয়নালের ডাকে ইব্রাহিমের সংবিৎ ফেরে, ‘আর মাত্র দশ মিনিট আছে। এহনই তরে নামতে হইব।’

ইব্রাহিম বুঝতে পারে, সামনে মৃত্যু অপেক্ষা করছে। তাকে ফেরানোর কোনো উপায় নেই। সে যেন বসা থেকে দাঁড়াতেই পারছে না। জয়নাল তাকে বসা থেকে টেনে তুলে ধাক্কা দিয়ে মাঠে ঠেলে দেয়। মাঠের ভেতর ঢুকে রীতিমতো কাঁপতে থাকে ইব্রাহিম। মনে মনে বলতে থাকে, আমার দিকে যেন বল না আসে। তবে দলের সব খেলোয়াড় তার দিকে একের পর এক বল পাস দিতে থাকে। এদিকে তার পায়ে হাঁটারই শক্তি নেই, দৌড়ানো তো দূরের কথা! বল ধরবে কী করে! বলকে ঠিক যমদূতের মতো মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে এটাই তার নিশ্চিত ঘাতক। রাইট কর্নারে তার দিকে মুহুর্মুহু বল আসতে থাকে। দু পা এগিয়েও বল ধরছে না ইব্রাহিম। দেখে সাপোর্টাররা বাইরে থেকে হইচই করে। ইব্রাহিমের খেলা দেখে তারা হতাশ, ‘ও মা, ঢাকাইয়া পিলার দেহি বলৈ ধরে না।’ তখনো কোনো দল গোল পায়নি। খেলা প্রায় শেষ হয় হয়, ইব্রাহিম দেখতে পায় এবার আর রক্ষা নাই, বলটা যেভাবে আসছে নিশ্চিত তার পায়ে এসে ঠেকবে। কী করবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়েছে সে। সামনে শুধু গোলকিপার। আর ইব্রাহিম দেখে শুধু ধোঁয়া, অন্ধকার। এই বলটাকে গোল না বানাতে পারলে দলের লোকজন কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে ছিঁড়েকুটে খেয়ে ফেলবে। মার খাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে ইব্রাহিম। তার পা বলটার দিকে যেতেই চাচ্ছে না। চোখ বন্ধ অবস্থায়ই সে দুর্বল পা-কে বলটার দিকে ছুড়ে দেয়। বলে পা লেগেছে কি না বুঝতে পারে না, পরপরই দাঁড়ানো থেকে লুটিয়ে পড়ে মাঠের ঘাসে। বুঝতে পারে তার ওপর একটার পর একটা মানুষ পড়ছে। লোকগুলো আজ তাকে হয়তো মেরেই ফেলবে। একটু পর দেখতে পায় সে আর মাটিতে নেই, শূন্যে ভাসছে। মানুষজন তাকে শূন্যে ছুড়ে দিয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোনঃ ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্সঃ ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইলঃ info@prothom-alo.info
 
topউপরে