সব

ভারতী মুখার্জি

আমেরিকান লেখক

হাসান ফেরদৌস
প্রিন্ট সংস্করণ
সম্প্রতি মারা গেলেন ভারতী মুখার্জি। ভারতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি একদা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন লেখক হওয়ার জন্য

ভারতী মুখার্জি (২৭ জুলাই ১৯৪০—২৮ জানুয়ারি ২০১৭)গেল জানুয়ারি মাসে ৭৬ বছরে দেহত্যাগ করলেন ভারতী মুখার্জি। আর্থ্রাইটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত নানা রোগে দীর্ঘদিন থেকে ভুগছিলেন তিনি, হৃদরোগের সমস্যাও ছিল। ৫৬ বছর আগে কলকাতা ছেড়েছিলেন, আমেরিকায় এসেছিলেন লেখক হওয়ার জন্য। সেই আমেরিকাতেই লেখক ভারতী মুখার্জি নিশ্বাস ত্যাগ করলেন।
এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারতী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় মহাদেশ থেকে আগত অভিবাসীদের জীবনকথা লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব নিজের মাথায় তুলে নিয়েছিলেন। অভিবাসীদের জীবনকথাই হবে নতুন সহস্রাব্দের মহাকাব্যিক আখ্যান—এ কথা ভারতীর। কিন্তু তিনি যে অভিবাসন অভিজ্ঞতার গল্প বর্ণনায় তাঁর জীবনের প্রায় অর্ধশতককাল ব্যয় করেন, তাতে প্রতিটি কেন্দ্রীয় চরিত্র—যারা সবাই নারী—তাদের লক্ষ্য একটাই, যেকোনো মূল্যে একজন আদর্শ আমেরিকান হয়ে ওঠা।
প্রথামাফিকভাবে যাকে আমরা ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ বলি—ঘরবাড়ি, বড় চাকরি, দামি গাড়ি—অধিকাংশ ভারতীয় অভিবাসীর একমাত্র লক্ষ্যই তো সেই স্বপ্ন অর্জন। সে স্বপ্ন অর্জন ভারতীরও লক্ষ্য, কিন্তু এ জন্য নিজস্ব কিছু শর্ত তিনি নিজের এবং তাঁর উপন্যাসের চরিত্রসমূহের জন্যও বেঁধে দিয়েছেন। তিনি চান স্বাধীনতা, যে স্বাধীনতা অতি বিত্তবান পিতার ছায়ায়, কলকাতার হাই সোসাইটিতে তাঁর কাছে অনার্জিত ছিল। সে স্বপ্ন অর্জিত হয়েছে আমেরিকায় এসে, এখানে তিনি বিত্ত পেয়েছেন, সঙ্গে পেয়েছেন তিনি যাকে ‘স্বাধীনতা’ ভাবেন—সেই যা খুশি তা করার ক্ষমতা।

বস্তুত আমেরিকায় অভিবাসীদের ‘যা খুশি তা করার ক্ষমতা’ নেই, ভারতী হয় এ কথাটা উপলব্ধি করেননি, অথবা জেনেও তা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন। কারণ, এ দেশের বর্ণ ও শ্রেণি বিভাজন অতিক্রম করে তিনি নিজেই একীভূত হয়েছিলেন এখানকার শ্বেত সভ্যতার সঙ্গে।
ভারতী নিজে সেই ধরনের অভিবাসী, যাকে আমেরিকায় ভাবা হয় ‘বিনাইন’, অর্থাৎ অবিপজ্জনক। এরাবিনাইন বা বিপজ্জনক নয়, কারণ এরা নিজেদের আমেরিকানদের চেয়েও বেশি আমেরিকান প্রমাণে ব্যস্ত। আমেরিকার শ্বেত সেনাপতিরা যদি রুষ্ট হয়, তাহলে প্রকাশ্যে এরা হাঁচিটিও দেবে না। ভারতী নিজে যে অভিবাসীয় অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছেন, তার সঙ্গে শ্বেত মানুষের অভিজ্ঞতার মোটা দাগে কোনো ভিন্নতা নেই। প্রথমে আইওয়া, পরে নিউইয়র্ক, মাঝখানে কানাডা, সবশেষে সানফ্রান্সিসকো—যেখানেই গেছেন, সহজেই সাফল্যের মুখ দেখেছেন তিনি। ঠিক খেটে খাওয়া ‘ইমিগ্রান্ট’-এর জীবনযাপন করতে হয়নি তাঁকে। আইওয়াতেই দেখা, প্রেম ও পরিণয় ‘নীলচক্ষু’ লেখক ক্লার্ক ব্লেইজের সঙ্গে। তখন থেকে সাদা মানুষের সামাজিক জীবনই তিনি যাপন করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ভারতী বলেছেন, জীবনে দুর্ঘটনা বলে কিছু নেই, যা আছে তা হলো অভিসরণ বা কনভারজেন্স। ‘আমার মনে বরাবর ইচ্ছা ছিল—কিন্তু যে ইচ্ছার কথা আমি মুখে কখনো স্বীকার করিনি—নতুন পৃথিবীর (অর্থাৎ আমেরিকার) একজন স্থায়ী সদস্য হব। সেই ইচ্ছাই আমাকে নিজের বৃত্তের বাইরে একজনের সঙ্গ প্রেমের পথে অভিসরিত করল।’
তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাসের নাম জেসমিন। সুদূর পাঞ্জাব থেকে আসা এক সাধারণ নারী জ্যোতি কীভাবে স্বাধীন ও আত্মনির্ভর হয়ে ওঠে, কীভাবে পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য ও সমাজের কাঁটাতার ডিঙিয়ে সাফল্য ছিনিয়ে নিয়ে হয়ে ওঠে জেইন—উপন্যাসটিতে আছে সেই গল্প। আমেরিকা এক বিচিত্র জায়গা, এখানে যেমন ভালো মানুষ আছে, তেমনি রয়েছে মন্দ মানুষও। এই ভালো মানুষ-মন্দ মানুষের বিভক্তি এড়িয়ে একের পর এক বিচিত্র ও অসম্ভব সব ঘটনা ঘটিয়ে জ্যোতি/জেইন অবশেষে একজন প্রকৃত আমেরিকান হয়ে ওঠে। কিন্তু তাঁর ক্রমপরিবর্তন—ট্রান্সফরমেশন—শেষ হয় না এতেও। ভারতী তাঁর উপন্যাসটি শেষ করেছেন এই মুগ্ধতা দিয়ে যে তাঁর বইয়ের নায়িকা আমেরিকার মতো, অনবরত পরিবর্তনশীল।
ভারতীর অধিকাংশ উপন্যাস, যা আমেরিকান পাঠকের দৃষ্টি কেড়েছে, তাতে জ্যোতি/জেইনের মতো ‘ওয়ান্ডারওম্যান’-এর কমতি নেই। এরা সবাই নিজ দেশে ভাগ্যবঞ্চিত ও বৈষম্যপীড়িত, আমেরিকায় এসে সবাই-ই নিজেকে আবিষ্কার করে এবং অবশেষে ‘মানুষ’ হয়ে ওঠে। এটা অনেকটা কিপলিংয়ের গল্পের মতো, গল্পটা শুধু বিপরীত দিক থেকে বলা। কিপলিংয়ের ক্ষেত্রে সাদা মানুষ ভারতে আসে মূর্খ ভারতীয়দের সভ্য করতে। ভারতীর বেলায় মূর্খ ভারতীয় নারী আমেরিকায় আসে সভ্য হতে।
তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ মিডলম্যান অ্যান্ড আদার স্টোরিস, যা তিনি নিউইয়র্কে তাঁর স্বল্পকালীন বসবাসের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লিখেছিলেন। এটি বাদ দিলে অন্য কোথাও ‘স্বাভাবিক’ অভিবাসীর জীবনাভিজ্ঞতার ছিটেফোঁটাও তাঁর লেখায় আমি পাই না। ভারতীয় বাঙালি স্ত্রীর দুর্ভোগ নিয়ে রচিত উপন্যাস ওয়াইফ সম্ভাবনার দিক দিয়ে বলবান হলেও অভিবাসী নারীর ‘স্টেরিওটাইপ’ অতিক্রম করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না—পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিবাহ, বহু স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় আগমন এবং ‘টিপিক্যাল’ ভারতীয় স্বামীর হাতে গৃহবন্দী জীবন। এই উপন্যাসের স্ত্রী ডিম্পল মুখার্জি ক্রমেই ক্ষয়ে যেতে যেতে একসময় বিদ্রোহী হয়ে ওঠে, নিষ্ঠুর স্বামীকে হত্যা করে নিজে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ।
তাঁর নায়িকাদের মুক্তি দিতে চান ভারতী। লেখকের এই লক্ষ্যের সঙ্গে পাঠক হিসেবে আমরা সংহতি প্রকাশ করি, কিন্তু যে ‘সাহিত্যের সত্যের’ ভেতর দিয়ে প্রকাশিত হয় সেই বিদ্রোহ, তাকে কিছুতেই বস্তুনিষ্ঠ মনে হয় না।
প্রায় একই রকম ঘটনাক্রম নিয়ে লিখিত তাঁর আরেকটি উপন্যাস ডিজায়েরেবল ডটার্স। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম তারা, যাকে ভারতী বর্ণনা করেছেন ‘ফাইস্টিওম্যান’—সোজা বাংলায় মারকুটে নারী হিসেবে। কলকাতার এক ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে তারার বিয়ে হয় আমেরিকায় অত্যন্ত সফল এক ভারতীয়ের সঙ্গে। সান ফ্রান্সিস্কোতে তাঁর বিলাসবহুল প্রাসাদে এসে তারা বিত্ত পায়, কিন্তু স্বাধীনতা পায় না। যেসব ভারতীয়ের সঙ্গে এই বড়লোকদের পাড়ায় এসে পরিচয় হয় তারার, তাদেরকে তার মনে হয় কূপমণ্ডূক, নারীবিদ্বেষী, আত্মম্ভর। এই জীবন আমার নয়—এই সিদ্ধান্ত থেকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে তারা। নিজেকে খুঁজে পায় সে।
সমস্যা হলো, ভারতী উপন্যাস নির্মাণের বদলে তাঁর পূর্ব-সিদ্ধান্তকৃত থিসিস একটি কৃত্রিম গল্পের আবরণে হাজির করেন। এই থিসিসের মোদ্দা কথা, ভারত মানেই কূপমণ্ডূক এক সভ্যতা। ভারতীয় পুরুষ—তা সে নিজ দেশেই থাকুক অথবা অগ্রসর সভ্যতার আমেরিকায়—অতি স্বার্থপর, নীচ মনোবৃত্তির এক কৃমিজাতীয় প্রাণী। এই একরৈখিক আখ্যানের কোনো পরিবর্তন নেই। ভারতীর নিজের যেমন, তেমনি তাঁর চরিত্রগুলোর মধ্যে আমেরিকার বুকের ওপর বসে থাকা দগদগে ক্ষত, বর্ণবিদ্বেষ—এগুলো দেখার ও জানার কোনো অর্থপূর্ণ অভিজ্ঞতা নেই। ওই দেশে সাদা-কালো ও ধনী-দরিদ্র যে দেয়ালের ভেতর আরেক দেয়াল ঘিরে বাস করে, তার কোনো চরিত্র তেমনভাবে সে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় না। আর যদিবা সে অভিজ্ঞতার বহিরাবরণের সঙ্গে তাদের পরিচয় ঘটে,—যেমন ঘটে তারার—তবে ভারতীর জন্য সেটি একটি ‘ট্রান্সফরমেটিভ’ প্রক্রিয়া মাত্র। এই সভ্যতার গভীর অসুখ, ধনবাদী সমাজের অন্তর্গত বৈপরীত্য, এর কোনো কিছুই তাদের অভিজ্ঞতার অন্তর্গত নয়। একজন অভিবাসী মানুষ, যে দৈনন্দিন অনিশ্চয়তা, ভীতি ও উন্মূল নিঃস্বতার ভেতর দিয়ে প্রতিটি দিনরাত্রি পার করে, ভারতী ও তাঁর চরিত্ররা সেসবের কিছুই জানে না। পাখির চোখে দেখা যে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব কাহিনি নির্মাণ করেন তিনি। এগুলো শ্বেতকায় মার্কিন পাঠকদের খুশি করে বটে, কিন্তু সে জীবনযাপন যার দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, তার কাছে এই গল্প রূপকথা মনে হয়। ঠিক যেমন হয় মনিকা আলীর ব্রিকলেইন উপন্যাস পাঠে।
জেসমিন লিখে চারদিকে হইচই পড়ে যাওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সাংবাদিক বিল ময়ার্সকে ভারতী বলেছিলেন, তাঁর কাছে আমেরিকার আরেক অর্থ হচ্ছে রোমান্টিকতা ও আশা। আর ভারত—তাঁর নিজের ফেলে আসা স্বদেশ—এক ভয়াবহ জায়গা; যেখানে যে সমাজে বা যে বংশে তুমি জন্মেছ, তা থেকে বেরোবার কোনো উপায় নেই। ‘কিন্তু এখন আমি এমন এক দেশে, যেখানে আমি ইচ্ছেমতো গ্রহণ বা বর্জন করতে পারি। এখানে আমি নিজের জন্য নতুন এক ইতিহাস গড়ে তুলতে পারি। এখানে স্বপ্ন দেখতে পারি এবং স্বপ্ন সত্যে পরিণত করতে পারি। কিন্তু যে ট্রাডিশনাল সমাজে আমার জন্ম, সেখানে ব্যক্তিগত স্বপ্ন বাস্তবায়ন অসম্ভব।’
সেই একই সাক্ষাৎকারে ভারতী নিজেকে জোসেফ কনরাডের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কনরাডও অভিবাসী, পোল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ডে আসা মানুষ। তিনিও তাঁর চেনা পৃথিবী থেকে নতুন পৃথিবীতে আগমনের গল্পটি লিখেছেন, যদিও তাঁর চোখে কোনো ঠুলি কখনোই ছিল না। তবে ভারতী যেন একটা ঠুলি পরেই এসেছিলেন আমেরিকায়, গল্প-কাহিনি লিখতে গিয়ে সেই ঠুলি আর খোলেননি। সেই সাক্ষাৎকারেই তিনি বলেছিলেন, কনরাড যেখানে বলেন কী ভয়ানক, কী ভয়ানক, সেখানে তিনি বলেন কী বিস্ময়, কী বিস্ময়।
ভারতীর সম্ভবত সবচেয়ে সাহসী উপন্যাস, হোল্ডার অব দ্য আর্থ। কাহিনিকাঠামো বিচারে এই উপন্যাস সালমান রুশদির দ্য এনচ্যান্ট্রেস অব ফ্লোরেন্স-এর সঙ্গে তুলনীয়। এতে শুধু যা নেই তা হলো রুশদীর গল্পের যৌক্তিক স্বতঃস্ফূর্ততা। এই উপন্যাসে ভারতীর লক্ষ্য আধুনিক আমেরিকার সঙ্গে মধ্যযুগের ভারতের নিবিড় সম্পর্ক নির্মাণ। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কিন গবেষক বেইঘ মাস্টার্স—যাঁর কাজ পুরোনো চিত্রকলা ও অ্যান্টিক গবেষণা করে তার কুষ্টি-ঠিকুজি নির্ণয়—তিনি সতেরো শতকের একটি মোগল চিত্রকলা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে উদ্ধার করেন, সেখানে যে শ্বেত ললনার দেখা মেলে, সে আসলে একজন আমেরিকান। হ্যানাহ ইস্টন নাম। সতেরো শতকের কোনো একসময় এক ইংরেজ ব্যবসায়ীর সঙ্গে ভারতে এসেছিল সে। এখানে এসে ঘটনাক্রমে তার প্রেম হয় এক ভারতীয় রাজার সঙ্গে। হোল্ডার অফ দ্য আর্থ এই হ্যানাহর গল্প নিয়ে। এই গল্পের কাঠামোকে ব্যবহার করে ভারতীর মোদ্দা বক্তব্য: আমরা যা ভাবি মার্কিন ও ভারতীয় ইতিহাস-সংস্কৃতি তার চেয়ে অনেক নিবিড়ভাবে পরস্পরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এখানে সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে তিনি ব্যবহার করেছেন রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিকাঠামো নির্মাণে। ফখরুল আলম তাঁর ভারতী মুখার্জি শিরোনামের বইয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘ক্রিয়েটিভ ইমাজিনেশনের’ মাধ্যমে অতীতকে পুনরুদ্ধার অনেক সময় যেকোনো স্বয়ংক্রিয় পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি অর্থপূর্ণ হতে পারে। ভারতীর এই ‘ক্রিয়েটিভ ইমাগিনেশনের’ হাতিয়ার হলো পুনর্জন্ম। হ্যানাহ একই সঙ্গে সতেরো শতকের কুসংস্কারাচ্ছন্ন আমেরিকা, বেনিয়া ইংলান্ড ও ঔপনিবেশিক ভারতের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র, যদিও সে একই নারীর ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ বা ‘আইডেনটিটি’। জেসমিন উপন্যাসে আমরা ভারতীকে এই পদ্ধিতি ব্যবহার করতে দেখি।
এ কথা যোগ করা ভালো, হোল্ডার অব দ্য আর্থ উপন্যাসে মধ্যযুগীয় ভারতের সঙ্গে আধুনিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র উদ্ধারে ভারতী যতটা আগ্রহী ও সক্ষম, ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতার অন্ধকার দিক অনুসন্ধানে তাঁর ঠিক ততটাই অনাগ্রহ ও অক্ষমতা। তিনি কল্পনার জুজুৎসু ব্যবহার করে একটি বেশ রহস্যঘন কাহিনি নির্মাণ করেন বটে, কিন্তু ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ের পেছনে যে রক্তক্ষরণ থাকে—ব্যক্তির ও সম্প্রদায়ের—তা খুঁড়ে দেখার কোনো আগ্রহ আলোচ্য উপন্যাসে আমরা পাই না।
অনুমান করি, এই উপন্যাস রচনার পেছনে যে তাত্ত্বিক থিসিসটি ভারতী অনুসরণ করেছেন তা হলো, মধ্যযুগীয় ভারত ও শিল্পোত্তর আমেরিকা শুধু যে একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে অন্বিত তা-ই নয়, বস্তুত আধুনিক আমেরিকা মধ্যযুগীয় ভারতের কাছে নানাভাবে ঋণী। আমেরিকায় অভিবাসী ভারতীর কাছে এই মৈত্রী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিজেকে তিনি একজন ভারতীয় থেকে আমেরিকান—এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ১৯৮৮-তে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস-এ তাঁর দীর্ঘ রচনায় ভারতী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন নির্দ্বিধায়: আই অ্যাম ওয়ান অব ইউ—আমি তোমাদেরই একজন।

 

সরদারের অপ্রকাশিত দিনলিপি

সরদারের অপ্রকাশিত দিনলিপি

মুখোমুখি কুরোসাওয়া ও মার্কেস

মুখোমুখি কুরোসাওয়া ও মার্কেস

সান্ধ্য মুখোশের চক্করে

সান্ধ্য মুখোশের চক্করে

প্রধান শিল্পীদের ছবি

প্রধান শিল্পীদের ছবি

মন্তব্য ( ১ )

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

ধন্যবাদ কাশবন

বইপত্র ধন্যবাদ কাশবন

কাশবন: কবি রফিক আজাদ স্মরণসংখ্যা। কাশবন পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ও পত্রিকার সম্পাদক...
নির্মলেন্দু গুণ
বইটি প্রত্যেক মা-বাবার জন্য

বইপত্র বইটি প্রত্যেক মা-বাবার জন্য

ডা. আবু সাঈদ শিমুল এমন এক সময়ে বাচ্চা যখন খায় না কিছুই বইটি লিখেছেন, যখন...
আখতার হুসেন
আমি সেই দেশের কবি

কবিতা আমি সেই দেশের কবি

আমি সেই সবুজ দেশের কবি। স্বপ্নের শবদেহ বহন করা ছাড়া কোনো কাজ আমাকে দেয়নি...
জাহিদ হায়দার
default image

সময়

বাতাসের শরীরে পাঁচ হাজার বছর আগের কথা ধুতি পরে দাঁড়িয়ে আছে দশ হাজার বছর পরের...
জব্বার আল নাঈম
চালের দাম বাড়ছে, কষ্টে মানুষ

চালের দাম বাড়ছে, কষ্টে মানুষ

চালের দাম আরেক দফা বেড়েছে। এখন বাজারে গেলে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে...
রাজীব আহমেদ
সাকিবের অন্য রকম আইপিএল

সাকিবের অন্য রকম আইপিএল

রাতটা ক্লান্তিতে কেটেছে। খেলা শেষে রাত তিনটায় পুনে থেকে ফ্লাইট ছিল। ভোরে...
তারেক মাহমুদ
শুধু উন্নয়ন নয়, উন্নত গণতন্ত্রও অপরিহার্য

বিশ্বের সামনে তিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ডেভিড ক্যামেরন শুধু উন্নয়ন নয়, উন্নত গণতন্ত্রও অপরিহার্য

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, ভবিষ্যতে বিশ্বের...
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
default image

তিন সমস্যার চক্রে জনপ্রশাসন

ওএসডি ২৫৭ জন, চুক্তিতে দেড় শতাধিক, তিন পদে ১৪ শ অতিরিক্ত কর্মকর্তা, ওপরের...
মোশতাক আহমেদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info